8/27/2026

৫,১০০ মিটার উঁচুতে হিমবাহধস, আধা ঘণ্টায় নদীর পানি ৩০ ফুট বেড়েই কি নেপালে এ দুর্যোগ ।

 


হিমালয় পর্বতমালায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল। 

গত বুধবার হিমালয়ের পার্বত্য নদী থেকে আসা প্রলয়ংকারী হড়কা বান এবং কাদা ও পাথরের ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু গ্রাম ও পাহাড়ি নগরী।

 বৃহস্পতিবার রয়টার্স ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে নিহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। 

দুর্যোগের পর থেকে নেপাল ও চীনের তিব্বত মিলিয়ে অন্তত দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ও পুণ্যার্থী রয়েছেন। 

প্রশ্ন উঠেছে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যাকবলিত এলাকায় এতো পর্যটক কেন ছিলেন? বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বন্যাকবলিত এলাকাটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র দুটি উচ্চভূমির হ্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এর একটি হলো তিব্বতের কৈলাস পর্বতের কাছে মানস সরোবর, অন্যটি নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ। প্রতি বছর কয়েক হাজার পর্যটক নেপাল হয়ে মানস সরোবরে যান।

 ভয়াবহ এই দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন বিজ্ঞানীরা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে এটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প মনে করা হলেও মূলত হিমবাহের বিশাল অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যে প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি হয়েছিল, তারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে কম্পনটি অনুভূত হয়।

 এই বরফ ও পাথরধসের কারণেই পাহাড়ের ক্ষিপ্র স্রোতের লেন্দে নদীতে ভাসিয়ে নিয়ে আসা ধ্বংসাবশেষ থেকে এমন প্রলয়ংকারী বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিব্বতের উজানে কৃত্রিমভাবে একটি হ্রদ আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে, যা চীনের কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেছে। এই হ্রদটি ভেঙে গেলে উদ্ধারকাজ আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত দুর্গম পার্বত্য এলাকায় সামরিক বাহিনী ও পুলিশের পাঁচ হাজারেরও বেশি সদস্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। আটকা পড়া হাজার হাজার মানুষের কাছে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাবু, শুকনো খাবার ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় এ ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।


শেয়ার করুন

Author:

দেশ ২৪ নিউজ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। আমরা আইনীভাবে বাংলার খবর শেয়ার করছি। আমরা বর্তমানের খবরের সাথে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

0 coment rios: