8/28/2026

নেপাল-ভুটান-ভারতের ট্রানজিট হাব হচ্ছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর।


 দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সৈয়দপুর বিমানবন্দর টিকে এবার দেশের পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরটির অবকাঠামো পুরোপুরি পাল্টে ফেলা হচ্ছে, যা উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় এক অভাবনীয় বিপ্লব নিয়ে আসবে। এতদিন এই অঞ্চলের মানুষকে যেকোনো আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াত বা পণ্য পরিবহনের জন্য শুধুমাত্র ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। কিন্তু নতুন এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে সৈয়দপুর থেকেই সরাসরি বৈশ্বিক রুটের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সম্পূর্ণ নতুন ও সম্ভাবনাময় দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য এর রানওয়ে সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণের এক বিশাল ও জটিল কর্মযজ্ঞ শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রধান শর্ত হিসেবে বিমানবন্দরটির প্রায় ছয় হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে সম্প্রসারিত করে প্রায় দশ হাজার থেকে বারো হাজার ফুটে উন্নীত করার কাজ শুরু হচ্ছে এই বিশাল রানওয়ের ফলে। এখানে অনায়াসেই সেভেন বা ড্রিমলাইনারের মতো সুপরিসর বা হোয়াইট বোর্ডের বড় উড়োজাহাজগুলো পূর্ণ যাত্রী ও ভারী কার্গো নিয়ে খুব সহজেই এবং নিরাপদে ওঠানামা করতে পারবে। মূল রানওয়ের পাশাপাশি বিশাল এলাকা জুড়ে নতুন অ্যাপ্রোন, সুপ্রশস্ত ট্যাক্সিওয়ে, অত্যাধুনিক রাডার স্টেশন, ভিআইপি লাউঞ্জ এবং অত্যাধুনিক কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে স্বয়ংক্রিয় লাগেজ, কনভেয়ার বেল্ট এবং দ্রুতগতির ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ নতুন টার্মিনাল ভবনটিকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে এটি বিদেশি পর্যটক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের কাছে দেশের এক নতুন মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে। এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক রূপ পেলে সবচেয়ে বড় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে তা হলো উপ আঞ্চলিক বাণিজ্যের অভাবনীয় সম্প্রসারণ। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা অবস্থিত, যেখান থেকে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর দূরত্ব আকাশপথে মাত্র ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিটের পথ। এই অনন্য ও অতুলনীয় সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সৈয়দপুর কে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে উপ আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগের প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমনকি নেপালের মত প্রতিবেশী দেশগুলোর নিজেদের আঞ্চলিক কানেকটিভিটি ও পর্যটন বাড়াতে এই বিমানবন্দরটি দ্রুত আন্তর্জাতিকীকরণের উপর প্রতিনিয়ত ব্যাপক জোর দিয়ে আসছে। এর ফলে আগামী দিনে এই অঞ্চলের চার দেশীয় ব্যবসা বাণিজ্যের এক বিশাল ও শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে সৈয়দপুর, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার এভিয়েশন মানচিত্রকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দেবে। উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দেওয়া এবং উপ আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রধান সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা সৈয়দপুর বিমানবন্দরের এই আন্তর্জাতিকীকরণের বিশাল উদ্যোগটি মূলত 2018 সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করার এক মেগা মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের এই সমন্বিত অগ্রগতির লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রস্তাবিত নতুন জাতীয় বাজেটে মেগা এই পরিকল্পনাটির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।


শেয়ার করুন

Author:

দেশ ২৪ নিউজ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। আমরা আইনীভাবে বাংলার খবর শেয়ার করছি। আমরা বর্তমানের খবরের সাথে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

0 coment rios: