নেপালে একদিকে লাশের মিছিল আরেক দিকে মাছ ধরার উৎসব।
হিমালয় কন্যা নেপালে প্রলয়ঙ্কারী বন্যা ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই এবার দেখা মিলেছে এক অদ্ভুত ও অভাবনীয় দৃশ্যে। পাহাড়ি ঢলের খোলা জলের সাথে লোকালয়ে আছড়ে পড়ছে লাখ লাখ মাছ। একদিকে যখন ঘরবাড়িয়া স্বজন হারানোর করুণ হাহাকার অন্যদিকে উত্তাল স্রোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরার এক অবিশ্বাস্য উন্মাদনা। গত 26শে আগস্ট নেপাল চীন সীমান্তে আকস্মিক হিমবাহ ধ্বসের কারণে ভোটেকশী ও ত্রিশলী নদীতে নজিরবিহীন পাহাড়ের ঢল নামে। চোখের পলকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বিস্তীর্ণীয় জনপদ। এই প্রলয়ঙ্কারী স্রোতের তোপে রসুয়া জেলায় অবস্থিত সরকারি মৎস গবেষণা কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে খামারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাছ মিশে যায় নদীর খোলাজলে। ভাসতে ভাসতে এই বিশাল আকৃতির মাছগুলো এখন চলে এসেছে লোকালয়ে ও নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে গায়ে কাঁটা দেওয়া এক দৃশ্য। চারিদিকে যখন নিখোঁজ মানুষের সন্ধান আর লাশের খবর তখন এক শ্রেণীর মানুষ বন্যার ভাল স্রোতে রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়ছেন মাছ ধরতে। জালগামছা কিংবা খালি হাতেই বড় বড় মাছ শিকার করছেন স্থানীয় যুবকরা। মৃত্যু হয় তুচ্ছ করে ঘোলা পানিতে মাছ ধরার এই উৎসব নেপালে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি সাময়িক প্রাপ্তি মনে হলেও মৎসখাতের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। দুর্যোগের এই ভয়াবহতার মাঝে এমন বিপদজনক উল্লাস নেপালের স্থানীয় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। খরশ্রোতা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে স্রোতের টানে নতুন করে যেন প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য এরই মধ্যে প্রশাসন থেকে কঠোর সতর্কতা জারি করে নদীতে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রকৃতি যেন সত্যিই এক নিষ্ঠুর চিত্রনাটর তৈরি করেছে। একদিকে সর্বনাশা বন্যা কেড়ে নিচ্ছে মানুষের ভিটে মাটি, অন্যদিকে সেই বানের জলেই ভাসছে অদ্ভুত আর বিপদজনক এক প্রলোভন। দুর্যোগ আর বেঁচে থাকার এক অন্যরকম আখ্যান এখন নেপালের এই বন্যা পরিস্থিতি।

0 coment rios: